প্রথম পরিচ্ছেদ
পৃথিবী আদি-অনন্ত কাল যাবৎ তাঁর নিজেস্বতায় পরিপূর্ণ। কখন'ও সে তির্যক ভঙ্গিমায় মানব জাতির ধ্বংসে লেলিহান, কখনও আবার মাতৃসুলভ পরিপূর্ণতায় মানবজাতির ধারক ও বাহক।
যুগের অনন্ত কাল ধরে এই আবর্তন প্রক্রিয়া বিদ্যমান। এর কোনো শেষ নেই বা হয়ত শেষ হওয়ার মুহূর্তে এই ভূমণ্ডলে মানবজাতি বা প্রানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
কিন্তু থাকবে একটি জিনিস। যা সদা পরিবর্তনশীল। যার উপর ভিত্তি করে মানব জাতি নিজেদের সমাজ , জীবন এবং চারিপাশে ঘটে যাওয়া সব কিছু গড়ে তুলেছে।
সেটা কি ? এ প্রশ্নের উত্তর বড়ই জটিল। সেটা কি মানুষের চিন্তনশীলতা ! নাকি বিজ্ঞানের পরাকাষ্ঠা জানার অনাবিল প্রচেষ্টা ! নাকি এসব কিছুই না ! নাকি এসব যা ঘটেছে তা কোনো এক বিশেষ 'ম্যাকানিজিম' , যার হদিশ মানুষ খুঁজে চলেছে অন্ধকারময় গুহা জীবন হতে!
সেটা কি , সেই উত্তর সাবলীল ভাবে দেওয়া একপ্রকার অনাহত। তবে এসবের মাঝেই এগিয়ে চলেছে জীবন। এগিয়ে চলেছে পৃথিবী ও মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সবকিছু।
মানুষ তার সমস্ত ইন্দ্রিয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগায় চোখ বা দর্শন'কে। আর সবচেয়ে কম - চিন্তনশীলতা। মানুষের অভ্যন্তরীণ এই মননশীলতা বা চিন্তার অবকাশ সর্বত্র সবার মধ্যে বিকাশ হয় না। হয়, কিঞ্চিৎ কিছু অতিমানবীয় দর্শনশীল মানুষের মধ্যে। যারা যুগে যুগে এসে পৃথিবীর সমস্ত লহমায় পরিবর্তন ঘটিয়ে যায়।
এই মানুষগুলোই বা কেন আসে! কেন এসেছিল শ্রী কৃষ্ণ ? শুধু কি কৌরবদের পরাজয়'হেতু ! কেন আবির্ভাব হয়েছিল চৈতন্য , রামকৃষ্ণের ? কেন এলেন এরিস্টটল , সক্রেটিস , রুশো ? মার্কস'ই বা কেন এলেন ? শুধু কি কমিউনিস্ট পার্টির উদ্ভবের জন্য ?
এই এত কেন , এত সহস্র কেন রয়ে গেছে যার উত্তর পাওয়া গেলেই হয়ত পাওয়া যাবে 'সেটা কি' - এর সার্বিক উত্তর।
মানুষ তবুও জানতে চায়। আর এই চাওয়াটা স্বউদ্ভব । যা ঘটে চলেছে কালান্তর।
প্লেটো যেমন বলেছিলেন, আমি জানি এই পৃথিবী সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ হিসেবে আমাকে মান্য করে , তবে আমি মানি যে আমি নিজে একটা আকাঠ মুর্খ এবং আমি কিছুই জানি না।
প্রথম ভাগের পরিসমাপ্তি ।।